Description
চিঁড়া বাঙালির এক সুপ্রাচীন ঐতিহ্যিক খাবার? হঠাৎ কোনো অতিথি বাড়িতে এলে তাকে আপ্যায়িত করা হতো চিঁড়া দিয়ে। সাথে খই-মুড়ি-গুড়। অভিজাত শ্রেণী এর সাথে দিতেন দই আর কলা। এমনকি কখনো কখনো এর সাথে পরিবেশন করা হতো যবের ছাতু বা খইয়ের ছাতু। বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশালে কোনো বাড়িতে অতিথি গেলে এখনো নারকেল, খেজুর গুড় ও চিঁড়া দিয়ে আপ্যায়ন করার প্রথা রয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় সকালের নাশতায় প্রচলন ছিল ঘোল-চিঁড়া খাওয়ার। এখনো সেসব এলাকার ময়রা বা মিষ্টান্নের দোকানে সকালে ‘ঘোল-চিঁড়া’ বিক্রি করা হয়।
চিড়া খাওয়ার উপকারিতা বলে শেষ করা যায় না। গরমে, নাশতায়, বিকেলের খাবারে , দই এর সঙ্গে, আমের সাথে কত কি উপায়ে চিড়া খাওয়া যায় তার ইয়ত্তা নেই । পেট ঠাণ্ডা করতে, পানির অভাব পূরণে এবং একই সাথে ক্ষুধা মিটাতে চিড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
আমাদের চিঁড়া কেন খাবেনঃ–
চিঁড়ার ধান ভিজিয়ে সেদ্ধ করে ঢেঁকিতে কুটে চ্যাপ্টা করা হয়। ঢেঁকিতে ভানা চিঁড়ার ওপর লাল কুড়ার আবরণ থাকে, চিঁড়াও হয় পুরু। এ জন্য পানিতে ভিজে নরম হতে একটু সময় বেশি লাগে। তবে স্বাদে ভালো ঢেঁকিতে কোটা চিঁড়া।
এমনকি ঢেঁকিছাঁটা চিঁড়ার যে স্বাদ, কলছাঁটা চিঁড়ায় তা নেই। একসময় এ উপমহাদেশে বিন্নি ধানের খই আর চিঁড়ার খুব সুনাম ছিল। বিভিন্ন লোকছড়াগুলো সে সাক্ষ্যই দেয়। যেমন-
আমার বাড়ি যাইও বন্ধু/
বসতে দিমু পিঁড়া/
বিন্নি ধানের খই দিমু/শালি ধানের চিঁড়া
ঢেঁকি ছাঁটা চিঁড়ার পুষ্টিগুনঃ–
১। চিড়ায় আঁশের পরিমাণ অনেক কম থাকে যা ডায়রিয়া, ক্রন’স ডিজিজ, আলসারেটিভ কোলাইটিস, অন্ত্রের প্রদাহ এবং ডাইভারটিকুলাইসিস রোগ প্রতিরোধে চিড়া খাওয়ার উপকারিতা অনেক।
২। চিড়ায় পটাসিয়াম এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকার জন্য কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে চিড়া খাওয়ার উপকারিতা অনেক।
৩। সিলিয়াক ডিডিজের রোগীদের জন্য চিড়া খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে। চালের প্রোটিন প্রোলামিন এবং গ্লুটেলিনের শোষণে কোন সমস্যা না থাকার জন্য এই রোগীদের জন্য চিড়া গ্রহণ করা নিরাপদ।
চিড়া খাওয়ার উপকারিতা অনেক থাকলেও বেশি শর্করা এবং উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচক সমৃদ্ধ খাবার বেশি গ্রহণে সিরাম ট্রাইগ্লিসারাইডের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে যা কার্ডিওভাসকুলার ডিডিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।তাই এসব রোগীদের চিড়া খাবার ব্যপারে সতর্ক হতেই হবে ।






Reviews
There are no reviews yet.